সাম্প্রতিক কবিতাসমূহ

হা-পিত্যেস

হা- পিত্যেস

 

আজন্ম পিপাসা কাতুর চাঁতকের মতো প্রতিক্ষায় ছিলাম প্রেয়সীর হাতে হাত রেখে দূর দিগন্তে হেঁটে যাবো। দুহাতে কুড়াবো ভালোবাসা। প্রণয়ের বন্ধনে বেঁধে রাখবো বাহুডোরে। সবুজ ঘাসে পা ভিজিয়ে তারার ফুল কুড়াবো, ক্লান্তির কোন লেশ থাকবে না দুজনার চোখে। আঙুলে আঙুলে কথা হবে, ভালোবাসা হবে চোখে চোখে। প্রেয়সীর শাড়ির আঁচলে বেঁধে রাখবো দুনিয়ার যত সুখ।

 

প্রেয়সীর হাসি দেখে বুনো ফুলের মুধু অন্বেষণকারী ছোট্ট প্রজাপতিটাও হিংসায় জ্বলেপুড়ে যাবে। যাক, তাকে আমার কি? প্রেয়সীর হাত আমার হাতে থাকলে পুরো পৃথিবীর ভ্রু-কুটি আমার কাছে নস্যি। আমাদের ভালোবাসা দেখে দক্ষিণা বাতাস তার শীতল হাওয়ায় এলোমেলো করে দিয়ে যাবে প্রেয়সীর কালো কেশ। দূর থেকে কোন গেয়ো পথিক হয়তো আমাদের দিকে নজর দিবে। একরাশ হাহাকার নিয়ে সেই পথিক বাড়ি ফিরবে। এমন ঝলমলানো ভালোবাসা দেখলে কে না হা-পিত্যেস করবে।

 

স্নিগ্ধ নদীর মেঠো পাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কাজলে আঁকা প্রেয়সীর কালো চোখের ছাঁয়া পরবে নদীর শীতল স্থীর কালো জলে। সেই চোখে আমি প্রেমের খুঁজ করবো। প্রেয়সীর হাতে আমার হাত দেখে ফুঁটে থাকা কলমি ফুল তার মোহনীয় সুবাস ছড়াবে। প্রেয়সীর মনোরঞ্জনে ব্যস্ত হয়ে যাবে সমস্ত প্রকৃতি।

 

মনের কুঠরে সাজিয়ে রাখা সেই বাসনা হয়তো কোন দিন পূরণ হবে না। তবুও আমার প্রেয়সীকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনি প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। সারাটিক্ষণ আশায় থাকি, যদি একবার সে বলে, “এই চলো না, দুজন কোথাও ঘুরতে যাই। হাতে হাত রেখে হাটি। হারিয়ে যাই এই দূর দিগন্তের শূণ্যতায়। পৃথিবীর সকল বাঁধা-বন্ধন, সংকোচ-ভয় সব ফেলে তোমার হাত ধরে হাটি।”

সেই আশায় আজো আছি। কিন্তু হাতটা ধরার মতো হাত তৈরি করতে পারি নি।


 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন